
কক্সবাংলা ডটকম(২০ আগস্ট) :: ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে জানানো হয়েছে যে দেশের অগ্নি-৫ মিসাইলের সফল পরীক্ষা করা হয়েছে। এই মিসাইলটি ওড়িশার চন্দীপুরের ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে “অগ্নি-৫ মিসাইলের পরীক্ষা সফল হয়েছে এবং সবকিছু ঠিকঠাক ভাবে কাজ করেছে। এটা স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের তত্ত্বাবধানে হয়েছে।” এই সাফল্য ভারতের নিজস্ব মিসাইল প্রযুক্তিতে এক ধাপ এগিয়ে গেল।
এই পরীক্ষার আগে বঙ্গোপসাগরে একটা বড় নোটাম (নোটিস টু এয়ারমেন) জারি করা হয়েছিল, যা ২০ থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এই নোটামে প্রায় ৪,৭৯৫ কিলোমিটার লম্বা একটা বিপদ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে, যা ওড়িশা উপকূল থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।
এটা ভারতের এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে লম্বা নোটামগুলোর মধ্যে একটা। প্রথমে ১১ আগস্টে ১,৫৬০ কিলোমিটারের কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু পরে তা বাড়িয়ে ৪,৭৯০ কিলোমিটার করা হয়। এতে অনেকে অনুমান করছিলেন যে কোনো দূরপাল্লার মিসাইলের পরীক্ষা হতে চলেছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এত লম্বা নোটাম মানে অগ্নি-৫-এর মতো মিসাইল হতে পারে, যার দূরত্ব ৫,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি। যদিও কিছু রিপোর্টে এটাকে ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ বলা হয়, কিন্তু এটা আসলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইলের মতো কাজ করতে পারে।
ডিআরডিও–র তৈরি এই মিসাইলের কিছু সংস্করণে একাধিক লক্ষ্যে আঘাত করার ক্ষমতা আছে, যাকে বলে এমআইআরভি। এতে ভারতের পরমাণু প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হয়েছে, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতিতে।
অগ্নি-৫ একটা তিন স্তরের সলিড ফুয়েল মিসাইল, যা ১.৫ টন ওজনের পরমাণু ওয়ারহেড বহন করতে পারে। পরীক্ষায় এর গাইডেন্স সিস্টেম, প্রপালশন এবং রি-এন্ট্রি মেকানিজম সবকিছু ঠিকঠাক কাজ করেছে।
এই পরীক্ষার ফলে ভারতের দ্বিতীয় আঘাতের ক্ষমতা অনেক বাড়বে। বঙ্গোপসাগর এই ধরনের পরীক্ষার জন্য সবসময় ব্যবহার হয় কারণ এখানে লোকালয় কম এবং ঝুঁকি কম। আগের পরীক্ষায়, যেমন ২০২২-এর অগ্নি-৫-এর নোটাম ৫,৪০০ কিলোমিটারের ছিল।
এই নোটামের সময় কাছাকাছি এলাকায় বিদেশি নৌবাহিনীর জাহাজের খবর ছিল কি, যা নজরদারিতে প্রশ্ন তুলেছে। ভারত নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মজবুত করার জন্যে এই পরীক্ষা করছে। অগ্নি-৫ এখন সেনাবাহিনীতে পুরোপুরি যোগ দেওয়ার কাছে। এটা ভারতের ন্যূনতম প্রতিরক্ষা নীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেকে দেশের সাফল্যে গর্বিত। এই পরীক্ষা দেখিয়েছে যে ভারতের বিজ্ঞানী এবং সেনারা কতটা কাজ করছে দেশকে সুরক্ষিত রাখতে। ভারত তার প্রতিরক্ষা অস্ত্রাগারকে দেশীয়ভাবে উন্নত করে চলেছে এবং ভবিষতেও করবে।

Posted ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট ২০২৫
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta